৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 279

জয়ের চ্যালেঞ্জে বেকায়দায় খালেদা জিয়া

অপপ্রচার চালাতে কোন রকম তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ৩০ কোটি ডলার পাচারের কথা তুলে চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়লেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে পুরো বিএনপি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা জয়কে হত্যা চেষ্টার মামলায় বিএনপিপন্থী সাংবাদিক শফিক রেহমান ফেঁসে যাওয়ার পর প্রশ্নের মুখে পড়া খালেদা জিয়া কৌশলে জয়কে জড়িয়ে অর্থপাচারের অভিযোগ তুলেছিলেন। কিন্তু এবার সেই টাকার খোঁজ দিতে খালেদার কাছেই দাবি তুলেছেন জয়। স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, ‘ম্যাডাম, আপনি যদি জানেন যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার কোথায়, অনুগ্রহ করে আমাকে জানান। আমি সেই সমস্ত অর্থ এতিমদের দান করে দিতে চাই।’

খালেদা জিয়ার কাছে জয়ের স্পষ্ট এ দাবিকে কেন্দ্র করে রীতিমতো তোলপাড় চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ প্রত্যেকেই বলছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে অবশ্যই এখন তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে হবে। এটা তার জন্য এখন চ্যালেঞ্জ। নিজের পরিচ্ছন্ন অবস্থানের জন্য সাধারণ মানুষ জয়কে অভিনন্দন জানালেও খালেদা জিয়াকে নিজের অবস্থান পরিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির অন্যান্য নেতা বিশেষত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জয়কে জড়িয়ে অর্থপাচারের কাহিনী প্রচারের কারণ মূলত সাংবাদিক শফিক রেহমানের আটক ও তার মাধ্যমে দলের একের পর এক গোমর ফাঁস হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক। শফিক রেহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বাড়িতে অভিযানের পর এফবি আইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ, জয়ের নানা তথ্যসহ একের পর এক অপরাধের প্রমাণ বেরিয়ে আসছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই বড় ধরনের সঙ্কটে পড়ার ভয় ঢুকে গেছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে। দলটির নেতারা সন্দেহ করছেন, যে কোন সময় তাদের দলের অন্য অনেকে জড়িয়ে পড়তে পারেন। খোদ খালেদাপুত্র তারেক রহমানের জড়িত থাকার চিন্তায় উদ্বিগ্ন দলটির নেতারা। এমন এক পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই খালেদা জিয়া বলে বসলেন, প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের একটি এ্যাকাউন্টেই আড়াই হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ৩০০ মিলিয়ন ডলার জমা আছে। এক সপ্তাহে অন্তত দু’বার এ কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। কেবল তাই নয়, এ কাজে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মামলার নথির কথাও যুক্ত করেছেন কোন তথ্যপ্রমাণ ছাড়া। খালেদা জিয়া জয়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তোলেন।

জয়কে প্রাণনাশের চক্রান্তের মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সভায় খালেদা জিয়া বলেন, সেই মামলার নথিতেই আছে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের একটি এ্যাকাউন্টেই আড়াই হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ৩০০ মিলিয়ন ডলার জমা আছে। এই টাকা কোথা থেকে গেছে? এই টাকার উৎস কী? জয়ের বিষয়ে তথ্য পেতে এফবি আইয়ের এক এজেন্টকে ঘুষ দেয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে প্রবাসী এক বিএনপি নেতার ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে এ কথা বলেন খালেদা জিয়া। ওই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সিজারের কারাদ-ের পর বাংলাদেশ পুলিশ জয়কে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ঢাকায় মামলা কওে, যে মামলায় আটক হন শফিক রেহমান।

শনিবারের বক্তব্যের পর রবিবার একই বিষয়ে কথা বলেন খালেদা জিয়া। রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মে দিবসের সমাবেশে খালেদা জিয়া কথিত ৩০ কোটি ডলার নিয়ে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানান। সমাবেশ মঞ্চে টাঙানো শফিক রেহমানের মুক্তির দাবিতে পোস্টার দেখিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, শফিক রেহমান কোন রাজনীতি করেন না। তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো কেন? তার দোষটা কী ছিল? দোষটা ছিল- প্রধানমন্ত্রীর পুত্রৃ কী যেন নাম? উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা এ সময় ‘চোর চোর’, ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে আওয়াজ দিতে থাকেন।

খালেদা বলেন, আদালত তার (সজীব ওয়াজেদ জয়) এ্যাকাউন্টে ৩০০ মিলিয়ন ডলার, আড়াই হাজার কোটি টাকা নিয়ে সন্দেহ করেছে। এফবি আই এই টাকা তদন্ত করে পেয়েছে। এখানে শফিক রেহমানের দোষটা কোথায়? তাকে গ্রেফতার করে এখন নাটক চলছে। শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করে খালেদা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনি তাদের যদি মুক্তি না দেন, আপনি যদি সত্যি সত্যি দেশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী হয়ে থাকেন, তাহলে এই যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ আড়াই হাজার কোটি টাকা আপনার ছেলে জয় কোথা থেকে পেল, তাকে ভেতরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। ওই অর্থগুলো কি বৈধ? এই ঘটনা ‘চাপা দেয়া যাবে না’ বলেও আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ার করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।

তবে একতরফাভাবে একের পর এক অভিযোগ তোলায় এবার ঠিকই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। ফেসবুক স্ট্যাটাসে খালেদা জিয়ার কাছেই কথিত ওই অর্থের উৎস বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছেন জয়। খালেদা জিয়াকে ‘চোর ও মিথ্যাবাদী’ আখ্যায়িত করে তিনি রবিবার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘একজন মহিলা, যিনি এতিমের টাকা চুরি করেছেন, যার ছেলে দুর্নীতির কারণে এফবি আই কর্তৃক পলাতক আসামি, তার মতো লোকের অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর নাতির দিকে কাদা ছোড়া উচিত নয়।’ কোন ধরনের দুর্নীতিতে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জয় বলেছেন, ‘আপনার (খালেদা) পোষা ভৃত্য মাহমুদুর রহমান এবং শফিক রেহমান এফবি আইয়ের গোপন নথি চুরি করে আমার সব ব্যাংক হিসাবের তালিকা পেয়েছে, কিন্তু সেই টাকা খুঁজে পায়নি। ১/১১-এর সামরিক শাসকরা যারা আমার মাকে আটক করেছিল, তারাও সেটি খুঁজে পায়নি। এমনকি এফবি আই সেটি পায়নি। এটা এজন্য যে, আমি ৩০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছিও কোন সম্পদ কোনদিন অর্জন করিনি। আমি তত ধনী নই।’

এদিকে খালেদা জিয়ার কাছে জয়ের স্পষ্ট এ দাবিকে কেন্দ্র করে রীতিমতো তোলপাড় চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতেই অন্যকে অপবাদ দিচ্ছেন। পেট্রোলবোমা বাহিনীর নেত্রী (খালেদা) হরর মুভির নায়িকাকেও হার মানিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর পেট্রোলবোমা মেরেছেন। হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পর পর পাঁচবার চাম্পিয়ন হয়েছে। এমনকি এতিমের টাকা চুরির অভিযোগে তার (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে মামলা চলছে। নিজের, নিজের পুত্রের এবং দলের দুর্নীতি আড়াল করার জন্য জাতির সঙ্গে মশকরা করেছেন খালেদা জিয়া। তাই খালেদাকে বলব কথাবার্তা সাবধানের সঙ্গে বলবেন। নিজেদের দুর্নীতি ঢাকার জন্য অন্যকে অপবাদ দেবেন না। সূত্র-জনকণ্ঠ

সরকারি টাকায় বিলাসিতা: হরিলুটের হিসাব চাইলো সংসদীয় কমিটি

যানবাহন ক্রয় ও মেরামতের নামে হরিলুট এবং কাজে-অকাজে ঘন ঘন বিদেশ সফর করে সরকারি টাকা অপচয় করছেন কর্মকর্তারা। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।

বৈঠকে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যরা। পরে বিগত ২ বছরে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কোন কোন কর্মকর্তা কতবার বিদেশ সফরে গেছেন তার তালিকা আগামী বৈঠকে জমা দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তরের বিভিন্ন যানবাহনের তালিকা (ব্যবহৃত কর্মকর্তা/কর্মস্থল) প্রস্তুতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কমিটির সদস্য দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তালুকদার আব্দুল খালেক, বি.এম মোজাম্মেল হক, আবদুর রহমান বদি, মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল ও হেপী বড়ালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংসদ সচিবালয় জানায়, কমিটি ভূমিকম্পসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটি দুর্যোগকালীন প্রয়োজনীয় মুহূর্তে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খোলা রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের সুপারিশ করেছে।

বৈঠকে ব্রিজ/কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় দেশের সব এলাকায় সুষমভাবে বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়। এসময় নাটোরের সবচেয়ে নীচু এলাকাগুলোকে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় আনতে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উক্ত এলাকায় আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিন বরাদ্দের জন্য বলা হয়।

কমিটি এমপিদের বিশেষ বরাদ্দ সমানভাবে প্রদানের সুপারিশ করে। তবে বাস্তবতার নিরিখে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে বলেও মত দিয়েছে কমিটি। মহিলা এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া বৈঠকে বাজার দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে টিআর/কাবিখা বরাদ্দ প্রদান অথবা সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। সূত্রঃ বাংলামেইল ২৪ ডট কম

ভারতে যৌন নিপীড়ন রুখতে ‘প্যানিক বাটন’ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে

ভারতে মোবাইল ফোন সেটে প্যানিক বাটন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আগামী বছর থেকে ভারতের সব মোবাইল ফোন সেটে ‘প্যানিক বাটন’ নামে একটি বিশেষ বাটন রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, নারীর প্রতি দেশে ক্রমবর্ধমান যৌন নিপীড়নসহ ধর্ষণ প্রতিরোধেই এই ব্যবস্থা।

মঙ্গলবার দেশটির টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বাটনটি জরুরি সেবা পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। মোবাইলের প্যানিক বাটনটি চেপেই নারীরা জরুরি সেবার জন্য ফোন করতে পারবেন।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘২০১৭ সালের ১ জানুয়ারিতে প্যানিক বাটন ছাড়া কোনও মোবাইল ফোন সেট ভারতের বিক্রি করা যাবে না।’

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মোবাইল ফোনে ইনবিল্ট জিপিএসও বাধ্যতামূলক করা হবে। সোমবার রাতে দেশটির টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ জানান, প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে উন্নত করার জন্য। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের চেয়ে আরও ভালো কী হতে পারে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

ইসলামে নারীর সাজ-সজ্জা

ইসলাম নারীকে সাজসজ্জা গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে সাজসজ্জা গ্রহণ করাকে একটি সওয়াবের কাজ বলেও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। স্বামীর উদ্দেশ্যে সাজসজ্জায় থাকার জন্য স্ত্রীর প্রতি ইসলামের নির্দেশ রয়েছে। বর্তমানে নারীদের অবস্থা হলো, স্বামীর সামনে তারা সাধারণ ঘরোয়া কাপড়-চোপড় পরে থাকে। আর বাইরে বেড়াতে যাওয়ার সময় আপাদমস্তক সুসজ্জিত হয়ে যায়। কেউ স্বামীর উদ্দেশ্যে সাজ-সজ্জা গ্রহণ করলে সমালোচনা শুরু হয়ে যায় যে, মেয়েটির লাজ-লজ্জা বলতে কিছুই নেই- স্বামীর সামনে সে কেমন রূপচর্চা করছে!

একজন নারী স্বামীসহ ঐ সকল পুরুষের সামনে সাজ্জ-সজ্জা প্রকাশ করতে পারবে যাদের সঙ্গে মেয়ে লোকের বিয়ে চিরস্থায়ীভাবে হারাম। তাদের তালিকা হচ্ছে: নিজ বাবা, ভাই, ছেলে, ছেলের ছেলে, শ্বশুর ইত্যাদি। তবে শর্ত হলো, ওই ব্যক্তিকে আমানতদার হতে হবে যিনি আল্লাকে ভয় করেন। সে যদি ফাসিক ও গুনাহগার হয় তাদের সামনে সৌন্দর্য প্রকাশ করা জায়েয নেই, সেটা নিজ ভাই হলেও না। অনুরূপভাবে নারীরা অমুসলিম মহিলাদের সামনে সৌন্দর্য প্রকাশের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। পবিত্র কুরআনের নি¤েœাক্ত বাণীটি তার সু¯পষ্ট প্রমাণ। আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর. পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভ্রাতু®পুত্র, ভাগিনা, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত দাসী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ স¤পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত অন্য কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। [সূরা আন-নূর: ৩১]

একজন নারী আয়াতে বর্ণিত সকল লোক ব্যতীত অন্যদের সামনে সুসজ্জিতাবস্থায় যতবারই আসুক ততবারই তাদের গুণাহ হবে। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু মূসা আল আশয়ারী (রা.) থেকেও এ মর্মে একটি হাদীস বর্ণিত আছে। রাসুল (সা.)বলেছেন, ‘প্রত্যেক চোখ যেনা করে। মেয়েলোক যখন সুগন্ধি মেখে কোন মজলিসের পাশ অতিক্রম করে, সেও যেনাকারিণী। (আবু দাউদ ও তিরমিযী) এর অর্থ হলো, সে যেনার প্রতি আহ্বানকারিণী। এধরণের কাজের কারণে সে গুনাহগার হিসেবে সাব্যস্ত হবে। হাদীসে উল্লিখিত চোখ যেনা করে এর অর্থ হলো, স্ত্রীদের নিষিদ্ধ সতরের দিকে তাকানো গুনাহ। কেননা, হারাম দৃষ্টি যেনার কারণ এবং যৌন কামনা সৃষ্টির উপায়। ইবনু খুযাইমা বর্ণিত আরো একটি হাদীস উপরোক্ত বিষয়টির ভয়াবহতার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ সে স্ত্রীলোকের নামাজ কবুল করেন না, যে সুগন্ধি মেখে তার ঘ্রাণ বাতাসে ছড়িয়ে মসজিদের উদ্দেশে বের হয়, যে পর্যন্ত না সে ঘরে ফিরে আসে ও গোসল করে। (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ) এটা হলো, সুগন্ধি নিয়ে মসজিদে যাওয়ার পরিণতি। কিন্তু যে নারীরা সুঘ্রাণ ছড়িয়ে খোলামেলা পুরুষের মজলিসে কিংবা অনুষ্ঠান অথবা তাদের ক্লাব ও অন্য লোকের ঘরে যায়, তাদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।

বায়োমেট্রিকে সিম নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়তে পারে

আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) পদ্ধতিতে চলমান সিম নিবন্ধন কার্যক্রমের সময়সীমা বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘সিম নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়াতে অপারেটরদের আবেদনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণ কী চায়। জনগণ যদি মনে করে আরও সময়ের প্রয়োজন, তাহলে সরকার সেটি অবশ্যই বিবেচনা করে দেখবে।’ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আগামীকাল বৈঠকে বসার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭ কোটি ৩৩ লাখ সিম সফলভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। আর এ সময়ে আঙুলের ছাপ ও তথ্য না মেলায় এক কোটির বেশি সিমের নিবন্ধন সফল হয়নি। বর্তমানে দেশে চালু থাকা মোট সিমের সংখ্যা ১৩ কোটি ৮ লাখ। সে হিসেবে মোট সিমের ৫৬ শতাংশ সফলভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।

বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬২ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহকের আঙুলের ছাপ না মেলায় সিম নিবন্ধন সফল হয়নি। পরিচয়পত্র পাওয়া না যাওয়ায় মেলেনি আরও ৩৪ লাখ ৯০ হাজার সিমের তথ্য। এ ছাড়া সার্ভারে ত্রুটির কারণে ৩ লাখ ৯০ হাজার এবং অন্যান্য কারণে আরও ৪ লাখ ৩০ হাজার সিমের নিবন্ধন সফল হয়নি।

আঙুলের ছাপ না মেলায় যাঁদের সিম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি, সে সম্পর্কে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘এমন ব্যবহারকারীরা গোটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। সারা দেশে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় অনুবিভাগের (এনআইডি) পাঁচ শতাধিক স্থানীয় কার্যালয় আছে। তাঁদের সেখানে যোগাযোগ করে পরিচয়পত্রে থাকা ত্রুটি দূর করতে হবে। এতে ব্যবহারকারীরা ভবিষ্যতের জন্য উপকৃত হবেন।’

মুঠোফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবীর বলেন, সিম নিবন্ধনে গ্রাহক ও অপারেটরদের আগ্রহের কোনো অভাব নেই। তবে যে সময় এখন বাকি আছে, তাতে সব সিমের নিবন্ধন শেষ করা সম্ভব নয়। সিম নিবন্ধনের এ প্রক্রিয়া সফলভাবে সমাপ্ত করতে সময় তাই যৌক্তিকভাবে বাড়ানো দরকার।

প্রথম আলো নেয়া

৪নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী হাজী ওমর ফারুকের পক্ষে গণজোয়ার

আসন্ন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী হাজী ওমর ফারুক শুক্রবার ও শনিবার  তাদের নির্বাচনী এলাকায় বিশাল শোডাউন ও গণসংযোগ করেছেন।
৪নং ওয়ার্ড থেকে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছে। তারা হলেন, হাজী ওমর ফারুক, আক্তার হোসেন এবং মোঃ আলীম।এদের মধ্যে হাজী ওমর ফারুক প্রচার প্রচারনায় এবং ভোটের সমীকরনে এগিয়ে রয়েছে।হাজী ওমর ফারুকের রাজাপুরের পঞ্চায়েত কমিটি আক্তার হোসেনকে সমর্থন করলেও তার কোন প্রচার প্রচারনা নেই বললেই চলে। ৪নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন ভোটারদের সাথে আলাপকালে সাধারন ভোটাররা জানান, হাজী ওমর ফারুক একজন ন্যায় পরায়ন ব্যক্তি। তার মত যোগ্য প্রার্থী পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত। কারন হিসেবে তারা উল্লেখ করে বলেন,আমাদের সুপরিচিত মুখ হাজী ওমর ফারুককে আমরা সাধারন ভোটাররা বিপদে আপদে সব সময় কাছে পাই। তিনি যদি  নির্বাচনে জয়লাভ করে তাহলে আমাদের অবহেলিত এ ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন করবেন     বলে  আমরা আশাবাদী। তাছাড়া এলাকাবাসি ও ভোটারদের মাঝে রয়েছে তার জনসমর্থন। এলাকার সাধারন মানুষের নেই কোন অভিযোগ । যদি পঞ্চায়েত কমিটি পুনরায় বিবেচনা করে একক ভাবে হাজী ওমর ফারুককে সমর্থণ দেয় এবং দলীয় প্রভাব মুক্ত সুষ্ঠ নির্বাচয় হয় তাহলে হাজী ওমর ফারুক জয়লাভ করবে। এ বিষয়ে মেম্বার পদপ্রার্থী হাজী ওমর ফারুক বলেন, সাধারণ ভোটাদের কথা বিবেচনা করে সামাজিক ভাবে একক প্রার্থী হিসেবে আমাকে যদি সমর্থন করে এবং  দলীয় প্রভাব মুক্ত সুষ্ঠ নির্বাচন হয় তাহলে আমি আমার এলাকার সাধারন ভোটারদের মুল্যবান ভোটে জয়লাভ করবো ইনশাল্লাহ।

ভক্ষক নয় রক্ষক হয়ে এলাকার উন্নয়ন করতে চাই-জয়নাল আবেদীন

আসন্ন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে  ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী  মোঃ জয়নাল আবেদীন শুক্র ও শনিবার তার নির্বাচনী এলাকায় বিশাল শোডাউন ও গণসংযোগ করেছেন। গণসংযোগকালে তিনি বলেন,মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয়, সত্যিকার অর্থে আপনাদের কল্যাণে কাজ করার উদ্দেশ্যে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। অনেকেই আপনাদের ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়ন না করে নিজের উন্নয়ন করেছে।কিন্তু আমি তা করব না।আমি ভক্ষক না হয়ে রক্ষক হয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।৮নং ওয়ার্ড থেকে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছে। তারা হলেন, মোঃ জয়নাল আবেদী,মোঃ মনির হোসেন ও সেকান্দর। এদের মধ্যে মোঃ জয়নাল আবেদী রয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।সরে জমিনে নির্বাচনী এলাকাতে ঘুরে ওয়ার্ডের বিভিন্ন ভোটারদের সাথে আলাপকালে সাধারন ভোটাররা জানান, মোঃ জয়নাল আবেদী একজন ন্যায় পরায়ন ব্যক্তি। তার মত যোগ্য প্রার্থী পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত।

বিভেদ ভুলে ঐক্য গড়ে তোলে ‘নতুন বছরে এদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে’

বিভেদ ভুলে ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলা নতুন বছরে দেশে ‘গণতন্ত্র ফিরে আসবে’ বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, ‘নতুন বছরে এদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। শান্তি এবং সুদিন আসবে, জনগণের কল্যাণ হবে, খুন-গুম থেকে মানুষ মুক্তি পাবে, দেশে বেকারদের কর্মসংস্থান হবে।

‘তবে সবচেয়ে বড় কাজ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। সেইজন্য বিভেদ ভুলে ঐক্য গড়ে তুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এর আয়োজন করা হয়। এর আগে দুপুর আড়াইটায় জাসাস শিল্পীদের গান পরিবেশন করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন সোয়া ৪টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন।

এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে প্রিয় নেত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বিএনপি নেত্রীও হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের অভিনন্দনের জবাব দেন।

খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে দেশবাসী, বিশ্ববাসী, প্রবাসীসহ প্রত্যেক রাজনৈতিক দল এবং এর নেতাদের, শিশু, মহিলা, সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘আশা করি এই নববর্ষ বাংলাদেশের মানুষের জন্য সুদিন বয়ে আনবে, শুভ হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যেমন করে শহীদের রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এবাব দেশকে শান্তি ও উন্নয়নের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

গণতন্ত্র ফেরাতে কাঁধে কাঁধ, হাতে হাত রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘অনেক বেদনা, অনেক কষ্ট ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বিএনপি শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আইন বিষয়ক সম্পাদক নিতাই রায় চৌধুরী, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম প্রমুখ।

বর্ষবরণের এই অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের আগে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হতে শুরু করেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে জনস্রোত। জাসাস সভাপতি এম এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মনির খান।

রূপগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে মামলা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণা নিয়ে প্রতিপক্ষের সমর্থককে রগ কেটে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে নিহতের মামি মাসুদা বেগম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভুঁইয়াকে প্রধান আসামি করে মামলাটি করেন। মামলায় শাহজাহান ভুঁইয়াসহ মুড়াপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল জাব্বার মেম্বার, মতি, কাজল, আউয়াল, মিলনসহ ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম মেহেদী মাসুদ জানান, সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল জাব্বার মেম্বারসহ তার লোকজন প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছের সমর্থক জাহাঙ্গীর মিয়াকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পায়ের রগ কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করেছেন এমন অভিযোগ এনে মাসুদা বেগম মামলাটি করেন। এ ঘটনায় ফয়সাল মিয়া, মিলন মিয়া, সুমন মিয়া ও আউয়াল নামে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে বুধবার বিকালে জানাজা শেষে জাহাঙ্গীর মিয়ার লাশ মঙ্গলখালী সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় অংশ নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ রফিকুল ইসলাম রফিক, আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছ, ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভুঁইয়া, মনজুর হোসেন ভুঁইয়া, আবুল হোসেন খান প্রমুখ।

মুড়াপাড়া ইউপি নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছসহ তার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী আবদুল জাব্বার মেম্বার ও তার কর্মী-সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে বড়ভিটা এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে মাসুদ মিয়া (২৫), রজব আলীর ছেলে রাজু মিয়া (২২), শাহজাহান মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া (২৭) ও ইলিয়াছ মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়াকে (৪০) বেঁধে রগ কেটে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে আবদুল জাব্বার মেম্বার ও তার লোকজন। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহাঙ্গীর মিয়া মারা যান।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দল গোছাচ্ছে আ.লীগ ও বিএনপি

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কমিটি ঘোষণা করেছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে এসেছে পরিবর্তন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেইে দুই বড় দলের কমিটিতে অনেক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

বিএনপি ১৯ মার্চ কাউন্সিল করেছে। এরপর আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকের ১৬ পদে আংশিক কমিটি। এর আগে মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপিতে নতুন নেতৃত্বে আশায় নেতারা জেগে উঠছেন। নতুন নেতৃত্বের নেতারা সরকারকে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগও কমিটি ঘোষণা। ঢাকা মহানগরকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করে আওয়ামী লীগের দুটি পৃথক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন যথাক্রমে এ কে এম রহমতুল্লাহ ও সাদেক খান। আর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আবুল হাসনাত ও শাহে আলম মুরাদ।

দলের পুরনো ও ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি নতুনদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে। এছাড়া বিভিন্ন সময় দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়েছেন, তাদেরও রাখা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের আসন্ন ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে যে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হবে সেই কমিটিও পরবর্তী নির্বাচনকে মাথায় রেখে সাজানো হবে। মূলত দলকে গতিশীল করে পরবর্তী নির্বাচন এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধী শিবিরের আন্দোলন মোকাবিলার জন্যই এমনভাবে দল গোছানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা।
একাধিক নেতা জানান, দলকে গতিশীল রাখতে সব ধরনের নেতাকর্মীদের পদ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগে। যে কারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাদের অনেককেও সদ্য ঘোষিত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে। আবার যেসব সিনিয়র নেতা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন না; কিন্তু দলসমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা যেন জিততে না পারেন এমন চেষ্টা করেছিলেন, তারা বাদ পড়েছেন দল থেকে।
তবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটা বার্তা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, যাদের কারণে দল বিতর্কিত হয়েছে, যারা দায়িত্বশীল পদে থেকেও দলকে যথোপযুক্ত সহযোগিতা করেননি, তাদের দলীয় পদ টিকিয়ে রাখা খুব কঠিন হবে। উদাহরণ হিসেবে ওই নেতারা বলেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের কা-ারী ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া খুব চেষ্টা চালিয়েছিলেন মহানগরের কমিটিতে থাকার জন্য; কিন্তু দলের হাইকমান্ড তাকে কোথাও রাখেনি।
একইভাবে সদ্যঘোষিত কমিটিতে নেই খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম এবং তাদের অনুসারীরা। মূলত মহানগর আওয়ামী লীগকে কোন্দলমুক্ত রাখার জন্যই তাদের রাখা হয়নি বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে মায়া চৌধুরী না থাকলেও তার ছোট ছেলে রাশেদুল হাসান চৌধুরী রনিকে মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাখা হবে বলে জানা গেছে।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলে নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুই রকম মত দেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এক পক্ষ মনে করেন, দলের কর্মীদের ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, তাই বলে একটি ভুলের কারণে আমরা তাদের আজীবন দলের বাইরে রাখতে পারি না। এছাড়া দলীয় ফোরামের মেজাজ বুঝে বিভিন্ন সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপর পক্ষের ভাবনা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাক কিছু এলাকায় তার নিজস্ব বলয় তৈরির জন্য সিটি নির্বাচনের বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের পদ দিয়েছেন। কারণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত ছিল, নির্বাচনে যারা দলীয় মনোনয়ন পাবেন না, তাদের নগর কমিটিতে মূল্যায়ন করা হবে। অন্যদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে যারা নির্বাচন করবেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা আরও জানান, দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১০ ও ১১ জুলাই। ইতোমধ্যে সম্মেলন সফল করতে প্রস্তুতি কমিটিও গঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে যারা নেতা হবেন, তারাই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন মোকাবিলা করবেন। সুতরাং সবদিক বিবেচনা করেই সম্মেলনপরবর্তী কেন্দ্রীয় কমিটি সাজানো হবে এবার। তবে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার দাবি, ঈদুল ফিতর হওয়ার কথা ৬ অথবা ৭ জুলাই। সেক্ষেত্রে ঈদের পরপরই না-ও হতে পারে সম্মেলন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, আমি যতোটুকু বুঝি, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান, সবাইকে নিয়ে চলতে। তিনি সবার সমন্বয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার পক্ষে। নেত্রীকে দেখেছি, বিন্দু ও সিন্ধু উভয়েরই মূল্যায়ন করেন তিনি। দলের জন্য যার বিন্দু পরিমাণ অবদান আছে তাকেও তিনি ভোলেন না আবার যার অবদান সিন্ধুর জলরাশির সমান তাকেও তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শরীরে মেদ জমে না। তারা ঠিকই আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে অংশ নেন। সেটি গত কয়েক বছরে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন মোকাবিলায় আমাদের কর্মীদের অংশগ্রহণ দেখলেই বুঝবেন।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর অন্যতম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, সবদিক বিবেচনা করেই দল সাজানো হচ্ছে, কমিটিগুলো গঠন করা হচ্ছে।

পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে ক্ষমতার বাইরে থাকা দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি। ইতোমধ্যে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।  চলতি মাসেই দলটির ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
জাতীয় কাউন্সিলের ২১ দিন পর তৃতীয় দফায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া ১৫ নেতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২ পদে এ ১৫ নেতার মধ্যে ১২ জনই নতুন। ১০  এপ্রিল নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মনোনীত ৭ জন যুগ্ম মহাসচিব ও ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন।

বিএনপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া ৭ জন যুগ্ম মহাসচিবের মধ্যে আগের কমিটির ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনই শুধু রয়েছেন। বাকি সবাই নতুন। নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া অন্য যুগ্ম মহাসচিবরা হলেন আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান সারোয়ার, আগের কমিটির যুববিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আগের কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন, আগের কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ ও আগের কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আসলাম চৌধুরী।
এর আগে  ৩০ মার্চ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপির মহাসচিব ও রুহুল কবির রিজভীকে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব পদে মনোনয়ন দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ ছাড়াও মিজানুর রহমান সিনহাকে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।